বাংলাদেশ ব্যাংক কোন ব্যাংক নয়, এটি অন্যান্য সকল ব্যাংকের মত মূলধারার ব্যাংকিং কার্যক্রমের সাথে জড়িত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিনির্ধারণী কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো এমন সুন্দর নির্বিঘ্ন, চাপমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও ঠিক সময়ে দ্রুত পদোন্নতির খুব কম সরকারি প্রতিষ্ঠানেই আছে। দেশের মুদ্রানীতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিরূপিত হয়। এটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার তহবিল সংরক্ষণ করে থাকে। এছাড়া এটি বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশী টাকার বিনিময় হার নির্ধারণ করে। ১ টাকা, ২ টাকা এবং ৫ টাকার কাগুজে নোট ব্যতীত সকল কাগুজে নোট মুদ্রণ এবং বাজারে প্রবর্তন এই ব্যাংকের অন্যতম দায়িত্ব। এছাড়া এটি সরকারের কোষাগারের দায়িত্বও পালন করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকা নবম গ্রেডের এবং প্রথম শ্রেনীর কনিষ্ঠ কর্মকর্তার পদটি হচ্ছে সহকারী পরিচালক বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর।

তরুণদের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) পদের চাকরিটা বেশ লোভনীয়। শুরুতেই বড় পদ, ভালো বেতন, সময়মতো পদোন্নতি, ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে পড়ার সুযোগ—সর্বোপরি এই পদ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পদের দায়িত্ব

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। প্রধান কার্যালয় ছাড়াও ঢাকায় এর আরো একটি শাখা রয়েছে সদরঘাটে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি করে শাখা আছে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বগুড়া, রংপুর, বরিশাল এবং ময়মনসিংহ শহরে।
প্রধান কার্যালয়ে মোট ৩১টি বিভাগ আছে। এসব বিভাগ এবং শাখা কার্যালয়সমূহের প্রধান হচ্ছেন একজন নির্বাহী পরিচালক অথবা মহাব্যবস্থাপক। একজন সহকারী পরিচালক বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর ৯ টি শাখায় কাজ করেন।

একজন সহকারী পরিচালকের কাজ কর্মরত শাখার উপর নির্ভর করে। তবে অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংক এ কাজের চাপ তুলনামূলক কম। কিছু বিশেষ শাখা যেমন প্রকৌশল, লাইব্রেরি, পরিসংখ্যান, গবেষণা ও অন্যান্য পেশাগত শাখা ব্যতীত সকল শাখাতেই সহকারী পরিচালক (জেনারেল) কাজ করেন। শাখাভেদে একজন সহকারী পরিচালককে অর্থনৈতিক সমীক্ষা, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, নীতি প্রণয়ন, বিভিন্ন নথিপত্র নিরীক্ষা সহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়।

ক্যারিয়ারঃ বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন সহকারী পরিচালকের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

সহকারী পরিচালকের উপরের পরবর্তী পদ গুলো যথাক্রমে ডেপুটি ডিরেক্টর, জয়েন্ট ডিরেক্টর, ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর, জেনারেল ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, ডেপুটি গভর্নর এবং একদম শীর্ষে গভর্নর। সহকারী পরিচালক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদানের পর ব্যাংকিং ডিপ্লোমা শেষ হলেই সাধারণত আড়াই থেকে চার বছরের মধ্যে ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে পদোন্নতি হয়। এর ৪-৭ বছরের মাথায় জয়েন্ট ডিরেক্টর।এর ৭-৮ বছরের মাথায় ডিপুটি জেনারেল ম‍্যানেজার (ডিজিএম) পদে পদোন্নতি পাবেন। চাকুরী জীবনের শুরু থেকে ২৩-২৭ বছরের মাথায় জেনারেল ম‍্যানেজার (জিএম) পদে পদোন্নতি পাওয়া যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পদে পদন্নোতির ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ও অর্থনীতিতে গভীর জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যাংকিং নীতিমালা ও আইনে সম্পর্কে যথেষ্ট দক্ষ ও অভিজ্ঞ হতে হবে।

বেতন-ভাতাঃ

☆☆ একজন সহকারী পরিচালক মাসিক মূল বেতন পান ২২,০০০/- টাকা এবং ১ম শ্রেণীর পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় যোগদানের শুরুতেই মূল বেতনের ৫% হারে একটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে তা দাড়ায় ২৩,১০০/- টাকা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের সবকটিতে ১ম শ্রেণীর নম্বর পেলে মূল বেতনের সাথে আরো ৪টি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (প্রতিটি ইনক্রিমেন্ট মূল বেতনের ৫% হারে) যোগ হয়।

☆☆ একজন সহকারী পরিচালক তার মূল বেতনের বাইরে প্রতি মাসে মূল সাথে ৬০% হারে বাড়ি ভাড়া, ১,৫০০/- টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৪,০০০/- টাকা মধ্যাহ্ন ভোজ ভাতা (প্রতি কর্মদিবসে মধ্যাহ্ন ভোজ ভাতা ২০০/- টাকা, ২০ কর্মদিবস হলে মোট ৪,০০০/- টাকা), ইন্টারনেট বিল ভাতা বাবদ ১,০০০/- টাকা এবং মোবাইল বিল ভাতা বাবদ ৫০০/- টাকা পান। এছাড়া কোন কোন ক্ষেত্রে অফিস টাইমের আগে সকালে ও অফিস টাইম শেষে সন্ধ্যার পর ওভারটাইম করলে এ বাবদ অতিরিক্ত ভাতা প্রদান করা হয়।

☆☆ সহকারী পরিচালক পদে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা Bangladesh Bank Training Academy (BBTA) তে ০৬ মাস মেয়াদী একটা Foundation Training বা বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ পান। এই প্রশিক্ষণে ৮০% নম্বর পেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মূল বেতনের সাথে আরো একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট যোগ হয় এবং প্রায় সকলেই এটি পেয়ে থাকেন। আবার ব্যাংকিং ডিপ্লোমা ১ম ও ২য় পর্ব (JAIBB & DAIBB) পরীক্ষায় কোন কর্মকর্তা কৃতকার্য হলে প্রতিটির জন্য তার মূল বেতনের সাথে আরো ০১টি করে ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কর্মকর্তারা ব্যাংকের খরচে ১৫ দিন বিদেশ ভ্রমণে যান এবং বিদেশ ভ্রমণ বাবদ প্রায় ১,১০,০০০/- টাকা পান। 

☆☆ ১ বছর শিক্ষানবিশকাল অতিক্রান্ত হলে সকলের চাকুরী স্থায়ী হয় এবং সকলের মূল বেতনের সাথে অতিরিক্ত ০১টি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়।

বোনাসঃ

একজন সহকারী পরিচালক ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা প্রতিটিতে মূল বেতনের ১০০% হারে ঈদ বোনাস পান। এছাড়া ইনসেনটিভ বোনাস হিসেবে জুলাই মাস শেষে আগের অর্থবছরে কি পরিমাণ ব্যাংক লাভ করেছে তা বিবেচনায় মূল বেতনের ১০০% হারে কমবেশি ৫-৬টা Annual Profit Bonus (Incentive Bonus) প্রাপ্ত হন।

ঋণ প্রাপ্তিঃ

চাকুরীর মেয়াদ ০৩ বছর পূর্ণ হলে গৃহনির্মাণ বাবদ বার্ষিক ৫% হারে ১২০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন এবং চাকুরীর মেয়াদ ০৫ বছর পূর্ণ হলে গাড়ি ক্রয় বাবদ আরো ২০ লাখ টাকা পাবেন।

বিশেষ সুবিধাঃ

কোন সহকারী পরিচালক যদি বিসিএস যেকোন ক্যাডারে বা অন্য সরকারি চাকুরী পান এবং সেখানে যোগদানে ইচ্ছুক থাকেন সেক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ০১ বছর ছুটি নিতে পারবেন। ঐ কর্মকর্তা যদি তার নতুন কর্ম-প্রতিষ্ঠানে চাকুরী নিয়ে অসন্তুষ্টিতে থাকেন বা ভাল না লাগে তাহলে তিনি ০১ বছরের মধ্যে যেকোন সময় বাংলাদেশ ব্যঅংকে পুনরায় যোগদান করতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে তার জ্যেষ্ঠতার লংঘন হবে না এবং তার অন্যান্য সহকর্মীর মতো যথাসময়ে পদোন্নতি পাবেন।

সার্বিক প্রস্তুতি :

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ। তাই এই পদে সার্বিকভাবে দক্ষতা ও জ্ঞানসম্পন্ন প্রার্থী আশা করা হয়,যার ফলে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সেভাবে সাজানো হয়, যাতে স্নাতক পর্যায়ে যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় এর যেকোন বিভাগ থেকে পাস করুক না কেন প্রতিযোগিতার জন্য Level playing field বজায় থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে মূলত তিনটি ধাপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়

১/ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা – ১০০ নম্বর
২/ লিখিত পরীক্ষা – ২০০ নম্বর
৩/ মৌখিক/ভাইভা পরীক্ষা – ২৫ নম্বর

⭐ প্রিলি পরীক্ষার মানবন্টন ও প্রস্তুতি : 

প্রথমেই একজন পরীক্ষার্থী কে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হয়। এই প্রিলিমিনারি বা প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার নম্বর মেধাতালিকার মূল নম্বরের সাথে যোগ হবেনা । এই পরীক্ষাটি মূলত নেওয়া হয় লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারীদের প্রাথমিক ভাবে যাচাই করার জন্য। যেহেতু এই পরীক্ষায় উর্ত্তীর্ণ না হলে আপনি লিখিত পরীক্ষা দিতে পারবেন না তাই এই পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার মানবন্টন সাধারণত নিম্নরূপ
বাংলা = ২০
ইংরেজিতে = ২০
গনিত = ৩০
সাধারণ জ্ঞান = ২০
কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি = ১০

প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ৬০ মিনিট সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। ১০০টি প্রশ্নের প্রতিটির জন্য গড়ে ৩৩ সেকেন্ড সময় পাওয়া যায়। প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য কাটা হবে ০.২৫ নম্বর।

বাংলা প্রস্তুতি:

বাংলার ক্ষেত্রে সাহিত্য ও ব্যাকরণ থেকে মোটামুটি সমান সংখ্যক প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই দুই অংশেই সমান গুরুত্ব পড়তে হবে।

বাংলার ব্যাকরন অংশের জন্য নবম-দশম শ্রেনীর বাংলা ব্যাকরন বইটি পড়তে হবে। এক্ষেত্রে যেমন বেসিক ক্লিয়ার হবে সাথে সাথে পাবেন নির্ভুল উত্তরের নিশ্চয়তা পাবেন। ব্যাকরন অংশে সাধারনত শুদ্ধিকরণ, প্রবাদ প্রবচন, বাগধারা, সন্ধি, সমাস, প্রকৃতি ও প্রত্যয় ও এককথায় প্রকাশ থেকে প্রশ্ন হয়।


বাংলায সাহিত্য প্রশ্নের ক্ষেত্রে সমসাময়িক সাহিত্যকর্মের প্রাধান্য থাকে। বাংলা সাহিত্যের জন্য পড়তে হবে লাল-নীল দীপাবলি- হূমায়ুন আজাদ। এই বইটি যেমন সাবলীল তেমনি নির্ভুল।  এই বইটা পড়ে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তর জানতে পারবেন।

এছাড়া সহায়ক বই হিসেবে রাখতে পারেন জর্জ এর MP3 Bangla , অগ্রদূত বাংলা । এই দুইটা বই মূলত চাকরি পরীক্ষা উদ্দেশ্য করেই প্রকাশ করা হয়েছে। বিগত সালের বিভিন্ন প্রশ্ন সমাধান, এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কে ফোকাস করে বইগুলো প্রকাশিত হয়েছে । এজন্য সহায়ক হিসেবে এই বই গুলো রাখলে বাংলায় একটা স্ট্রং জোন তৈরি হবে।

ইংরেজি প্রস্তুতি:

ইংরেজি গ্রামারের জন্য Competitive Exams অথবা MASTER থেকে বুঝে বুঝে পড়ুন। ইংলিশ লিটারেচার এর জন্য ওরাকল এর মিরাকল থেকে বিস্তারিত পড়তে পারেন। এবং Vocabulary এর জন্য Barrons এর বইটা খুবই কাজে দিবে, ই বইটা Vocabulary অংশের প্রস্তুতির জন্যে সহয়ক হিসেবে রাখতে পারেন। ইংরেজিতে সমার্থক শব্দ, বিপরীত শব্দসহ অ্যানালজি, বাক্যে ভুল নির্নয়, বাক্য সম্পূর্ণ ক্রিয়ার ব্যবহার সংক্রান্ত বেশি প্রশ্ন দেখা যায়। 

গনিত প্রস্তুতি:

আনুপাতিকভাবে গনিতে নম্বর বেশি এবং পরীক্ষায় উত্তর করতেও বেশি সময় লাগে বলে অনুশীলন বাড়াতে হবে। ক্যালকুলেটর ছাড়াই বিভিন্ন বই থেকে অংক করার অভ্যাস করুন।

১/শাহীন’স ম্যাথ
২/খায়রুলস বেসিক ম্যাথ

যেকোন একটা বই অনুসরন করলেই যথেষ্ঠ হবে। এবং যেসব চ্যাপ্টার গুলো গুরুত্বপূর্ণ এবং বিগত সালে বেশী এসেছে সেগুলো বেশী ফোকাস করে পড়ুন।  


কম্পিউটার ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রস্তুতি:

কম্পিউটার ও প্রযুক্তি নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় থাকেন। এ অংশ থেকে দশটি প্রশ্ন থাকে। সিলেবাস সীমিত তাই নির্দিষ্ট কিছু বিষয় ভালভাবে আয়ত্ত্ব করতে পারলে এ অংশে পূর্ণ নম্বর পেতে পারেন। 

” Self Suggestion কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি” অথবা জর্জ সিরিজের ইজি কম্পিউটার বইটি সহায়ক হিসেবে পড়তে পারেন । আরো বিস্তারিত প্রস্তুতি নিতে চাইলে এইচ.এস.সি এর যেকোন লেখক এর আইসিটি বই রেফারেন্স হিসেবে পড়তে পারেন ।

সাধারন জ্ঞান প্রস্তুতি:

সাধারন জ্ঞান অংশে দুইটি অংশ থাকে 

১/ বাংলাদেশ বিষয়াবলি
২/ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি

এক্ষেত্রে আলাদা বই ও পড়তে পারেন কিংবা একসাথে বেসিক ভিউ বইটি পড়তে পারেন। এছাড়া পত্রিকায় প্রতিদিন সমসময়িক নানা ঘটনার বিবরণ-বিশ্লেষণ পড়লেই সাধারণ জ্ঞান অংশের প্রস্তুতি হয়ে যাবে।

⭐ লিখিত পরীক্ষার মানবন্টন ও প্রস্তুতি : 

প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা পার হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল লিখিত পরীক্ষা। দুই ঘন্টার দুইশত নম্বরের এই পরীক্ষার উপরই অনেকটা নির্ভর করে চূড়ান্ত নিয়োগের সম্ভাবনা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদের লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের ওপর মোট ২০০ নম্বরের প্রশ্ন করা হয়।

গনিত প্রস্তুতি:  

বাংলাদেশ ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষায় গণিতে ভালো করা না করার ওপর লিখিত পরীক্ষা নির্ভর করে অনেকাংশে। গণিতে সাধারণত ৭০ নম্বর থাকে। তবে অনেক সময় ৮০-৯০ নম্বরেরও প্রশ্ন আসে। গণিতের উত্তর সঠিক হলে পুরো নম্বরই পাওয়া যায়। তাই গণিতে ভালো করে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকা সহজ! গণিতের প্রস্তুতির জন্য বাজারের প্রচলিত ভালো মানের এক বা একাধিক বই অনুসরণ করুন। পরীক্ষার হলে এ বিষয়ের জন্য ৪০-৪৫ মিনিট সময় বরাদ্ধ রাখুন। গণিতের ৫০ শতাংশ প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ আসে, একটু মাথা খাটালেই উত্তর দেওয়া যায়।

ফোকাস রাইটিং : 

বাংলা ও ইংরেজিতে দুটি ফোকাস রাইটিং বা রচনা লিখতে আসে। ফোকাস রাইটিংয়ে মোট ৫০ নম্বর বরাদ্ধ থাকে। ফোকাস রাইটিং লেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ডাটা, চার্ট, কোটেশন ব্যবহার করলে ভালো নম্বর পেতে সহায়ক হয়। যতটা সম্ভব ডাটা, গ্রাফ, কোটেশন ব্যবহারের চেষ্টা করুন। এগুলো আগে থেকে বিষয়ভিত্তিক নোট করে পড়তে পারলে ভালো হয়।   ইংরেজির জন্য তিন পৃষ্ঠা এবং বাংলার জন্য চার পৃষ্ঠা লিখলেই যথেষ্ট! অতিরিক্ত লেখার চেয়ে পরিমিত গুছিয়ে লেখাই ভালো। সুন্দর শব্দ চয়নটাও গুরুত্বপূর্ণ। নীল অথবা সবুজ রঙের কলম দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাইলাইটস করা যেতে পারে।

প্যাসেজ : 

ইংরেজি প্রশ্নে একটি প্যাসেজ দেওয়া থাকে, সে আলোকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হয়। এখানে থাকে ২০ নম্বর। প্যাসেজ পড়ার আগে প্রশ্নগুলো পড়ে নেওয়াটাই ভালো। তাহলে প্যাসেজ পড়ার সময় মাথায় সেট করা থাকবে কোন কোন তথ্য প্যাসেজ থেকে বের করতে হবে।

অনুবাদ : 

বাংলা থেকে ইংরেজি এবং ইংরেজি থেকে বাংলা অনুবাদ এ ২০ নম্বর থাকে। অনুবাদে ভালো প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত ইংরেজি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয়, উপসম্পাদকীয়, অর্থনীতি পাতা ও আন্তর্জাতিক পাতার সংবাদগুলো দেখে অনুশীলন করতে পারেন। অনুবাদের প্রস্তুতির জন্য Translation for competitive Exams বই থেকে বিগত সালের ব্যাংক পরীক্ষার ট্রান্সলেশনগুলো দেখতে পারেন। এরপর অন্যান্য পরীক্ষার অনুবাদ চর্চা করলে প্রস্তুতি আরো পাকাপোক্ত হবে। পরীক্ষার হলে অনুবাদে ২০-২৫ মিনিট সময় বরাদ্ধ রাখতে পারেন।

প্রতিবেদন ও দরখাস্ত : 

প্রশ্নে ব্যবসায় সম্পর্কিত প্রতিবেদন কিংবা দরখাস্ত লিখতে বলা হয়। এর জন্য বিগত সালে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে আসা প্রতিবেদন বা দরখাস্ত দেখতে পারেন। মূলত লেখার ফরম্যাট শেখাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন বা দরখাস্তের বিভিন্ন ধরন আছে। তাই সব ধরনের প্রতিবেদন বা দরখাস্ত লেখার চর্চা করুন। অন্যান্য অংশের চেয়ে এটি তুলনামূলক সহজ। তাই একটু চেষ্টা করলেই ভালো নম্বর তোলা সম্ভব। প্রতিবেদন বা দরখাস্ত এক পৃষ্ঠা লিখলেই যথেষ্ট। এই অংশে ২০ নম্বর থাকে।

⭐ মৌখিক পরীক্ষার মানবন্টন ও প্রস্তুতি : 

লিখিত অংশে পাশ করার পর আসে মৌখিক পরীক্ষা। ভাইভা বোর্ডে মেধা যাচাইয়ের চেয়ে মানসিক ভাবে আপনি কতটুকু কনফিডেন্ট,অফিশিয়ালি যোগ্য সেটাই বেশি যাচাই করা হয়। তাই বিচক্ষণতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে মোকাবেলা করবেন। লিখিত পাশ করার পরেই ভাইভা/মৌখিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পাবেন। যদিও এই নিয়োগ পরীক্ষায় সিংহ ভাগ নম্বরই থাকে লিখিত পরীক্ষায়। ভাইভাতে শুধুমাত্র ২৫ নম্বর থাকে এবং মূলত লিখিত পরীক্ষার উপরই জব হওয়াটা অনেকাংশে নির্ভর করে। কিন্তু তারপরেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে যেনো মৌখিক পরীক্ষায় ভালো ইম্প্রেশন থাকে এবং ভালো করা যায়। তাহলে জব পাওয়াটা আরো সহজ হয়ে যায়।

লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দেয়ার পর মৌখিক পরীক্ষার জন্য যেসব ডকুমেন্টস গুলো প্রস্তুত করতে বলা হয় , সেগুলো রেডি করে ফেলতে হবে এবং তারপর রিলাক্স ভাবে ভাইভার জন্য প্রিপারেশন নিতে হবে। মাথায় কোন টেনশন রাখা যাবেনা।

ভাইভার ক্ষেত্রে কি ধরনের প্রশ্ন হতে পারে,কি কি পড়তে হবে এসব থাকছে এই অংশে …………..

নিজের পরিচয়ঃ
ভাইভার শুরুতেই নিজের পরিচয়,নাম ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে। যদি এধরনের প্রশ্ন করে সেটা নিজের জন্য ভালো কারন আপনি আগে থেকেই এই ব্যাপার গুলো ভালো করে গুছিয়ে নিতে পারবেন।

⭐ চাকরির ভাইভায় যদি আপনার সম্পর্কে জানতে চায়, তাহলে আপনার পরিচয়ের পাশাপাশি , আপনার সম্পর্কেও বলে হবে। এ প্রশ্নের জন্য আপনি কত দিন ধরে পড়েছেন অর্থাৎ শেষ অর্জিত ডিগ্রি পর্যন্ত নিয়ে বলাই ভালো। আর যদি সাম্প্রতিক কোনো কাজের অভিজ্ঞতা থাকে (বর্তমান চাকরি) তা–ও বলতে হবে। আর কেন আপনি এ চাকরি বা পেশাকে বেছে নিতে চান এবং কাজটি কেমন, তারও দু–চার কথা বলা ভালো। আর যে চাকরির জন্য ভাইভা দিচ্ছেন, ওই চাকরিসংক্রান্ত কোনো অর্জন বা অর্জিত জ্ঞান, আপনার কোনো আলাদা যোগ্যতা থাকলে তা–ও বলতে পারেন। তবে সম্পূর্ণ বিষয়টি বলতে হবে সংক্ষিপ্তভাবে। এজন্য নিজের সম্পর্কে কি বলবেন তা ভাইভার আগে গুছিয়ে নিন বাংলা এবং English এ।

⭐ নিজের নামের অর্থ , ইতিহাস এবং এই নামের বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে যেতে হবে। এবং এমন ভাবে উত্তর দিবেন যেন আপনার উত্তর থেকে কোন নতুন প্রশ্ন করলে সেটা আপনি উত্তর করতে পারেন।

নিজ জেলাঃ
নিজের জেলা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে।

⭐ জেলার নামকরন,ইতিহাস,বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যাক্তি,জেলার রাজনৈতিক ব্যাক্তি, কবি সাহিত্যিকের নাম এবং তাদের বিভিন্ন রচনা,লেখা ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে হবে।

⭐ জেলার মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কয়েকজনের নাম, জেলায় ১৯৭১ সালে কোন যুদ্ধ হয়ে থাকলে সে সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে

⭐ আপনার এলাকার সংসদ সদস্য/মন্ত্রীর নাম 

⭐ নিজ জেলায় বিভিন্ন নদী,নদীর নামকরন, কেন সেই নদী বিখ্যাত ইত্যাদি দেখতে হবে অর্থাৎ নদীগুলো যেহেতু বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের সাথে জড়িত তাই এগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা রাখতে হবে

⭐ নিজ জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মেজর কোন প্রকল্প যেমনঃ স্লুইচ গেট এছাড়াও বিভিন্ন চলমান প্রকল্প সম্পর্কে জেনে যেতে পারলে ভালো।

মোট কথা আপনার জেলা সম্পর্কে আপনার পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। জেলার পাশাপাশি উপজেলা,গ্রাম সম্পর্কে ধারনা রাখতে হবে। বাংলাদেশ তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইটেরঃ জেলা তথ্য বাতায়ন,উপজেলা-ও-ইউনিয়ন-তথ্য-বাতায়ন অংশে জেলা/উপজেলা সম্পর্কে বিস্তারিত পাবেন।


⭐ ⭐ বাংলাদেশ বিষয়াবলীঃ

আপনি যেহুতু একজন বাংলাদেশের নাগরিক তাই আপনাকে দেশ সম্পর্কে কিছু প্রাথমিক ধারণা রাখতে হবে। যেমন, দেশের ভৌগােলিক অবস্থান, আয়তন, মোট জনসংখ্যা ইত্যাদি। এ অংশে সবচেয়ে হট-টপিক হচ্ছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের পূর্ববর্তী পটভূমি গুলো থেকেই প্রশ্ন করা হতে পারে। ১৯৪৭ এর দেশ-ভাগ, ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলন,৫৪ এর নির্বাচন,৭০ এর নির্বাচন, ৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সহ ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত ইতিহাস ভালো করে জানতে হবে।

⭐ ভাষা আন্দোলন
⭐ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি
⭐ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
⭐ ১৯৭৫ এর ইতিহাস
⭐ যুদ্ধাপরাধী ও তাদের বিচার
⭐ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে
⭐ ভৌগােলিক অবস্থান
⭐ নদ-নদী
⭐ সাম্প্রতিক ঘটনা
⭐ বাংলাদেশে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানঃ
বঙ্গবন্ধুর সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অম্লান স্মৃতি জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রেসিডেনশ্যাল অর্ডার দিয়ে সায়ত্ত্বশাসন প্রদান করেন। তাই জাতির পিতার সম্বন্ধে ভালো করে জেনে যাবেন।

⭐ ⭐ কেন আপনার পছন্দ এ চাকরিঃ

যখন যে কোন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষার ভাইভা দিতে যাবেন ,সেই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যেতে হবে। সেই প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাস, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য , প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি সহ বিস্তারিত জানতে হবে। যেকোন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিস্তারিত সেই প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে পাবেন, নিজের সম্পর্কে সেরা ও সঠিক তথ্যই সেখানে (ওয়েবসাইটে) থাকার কথা। এছাড়া রেন্ডম গুগল সার্চ করে / উইকিপিডিয়াতে ও তথ্য পাবেন।

⭐ ⭐ সাম্প্রতিক তথ্যঃ
যে দিন ভাইভা দেবেন তার কয়েকদিনের মধ্যে আলোচিত খবর,ঘটনা সম্পর্কে জেনে যেতে পারলে ভালো। এছাড়া যে দিন ভাইভা সে দিনের বাংলা তারিখ, সেই দিনের ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক ঘটনা, সেই দিনের পত্রিকার আলোচিত ঘটনা ইত্যাদি দেখতে হবে।

প্রিলিমিনারি এবং লিখিত অংশের প্রস্তুতির সময় ধারাবাহিক পড়াশোনা নিয়োগের সর্বশেষ ধাপ মৌখিক পরীক্ষায়ও ইতিবাচক ফল দেবে। ভাইভার অনেক প্রশ্নই আপনার প্রিলি এবং লিখিত অংশের প্রস্তুতি থেকে করা হবে। তাই মূলত প্রিলি ও লিখিত অংশের ভালো প্রস্তুতিই আপনাকে এগিয়ে রাখবে সাফল্যের দৌড়ে।

আমরা শুধুমাত্র আপনাকে প্রস্তুতির গাইডলাইন দিতে পারি কিন্তু প্রস্তুতি নেওয়া নির্ভর করবে আপনার উপর। আপনার সময় অনুসারে একটা স্টাডি প্ল্যান তৈরি করুন এবং সেই অনুসারে পড়ার চেষ্টা করুন। ভালো মানের বই অল্প করে বার বার বেসিক ক্লিয়ার করে পড়লে মেমোরাইজ জোন তৈরি হবে, মনে থাকবে বেশি। এই বইগুলো পড়লে আপনার বাংলাদেশ ব্যাংক সহ বিসিএস এবং অন্যান্য নন-টেক চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।
শুভ কামনা

.

লেখাঃ
মোঃ তৌহিদুল ইসলাম
উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী
এল.জি.ই.ডি

.

.

সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) জব প্রিপারেশন কোর্স
সঠিক গাইডলাইন সহ, টেক্সট বই এবং বিগত সালের প্রশ্নের আলোকে গুছানো সব লেকচার নোট , বেসিক ক্লিয়ার করে শুরু থেকে কিভাবে প্রস্তুতি নেওয়া , এক্সামে কি ধরনের Question হতে পারে, পূর্ববর্তী প্রশ্নের এনালাইসিস ও সলিউশন, কোন এক্সাম কারা নিবে, কোন এক্সামের জন্য কিভাবে প্রস্তুতি সাজাতে হবে এই সবকিছুর কম্বিনেশনে 𝐃𝐞𝐬𝐢𝐠𝐧 𝐈𝐧𝐭𝐞𝐠𝐫𝐢𝐭𝐲 এর জব প্রস্তুতি কোর্সটি। 

কোর্সটি সম্পর্কে বিস্তারিত পাবেন নিচের লিকে
https://blog.dil.com.bd/2021/05/assistant-engr-civil/

যোগাযোগঃ 01829713900

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here