বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬ টি।

১। সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
২। অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
৩। রূপালী ব্যাংক লিমিটেড
৪। জনতা ব্যাংক লিমিটেড
৫। বেসিক ব্যাংক লিমিটেড
৬। বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক ২ টি।
১। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (রাষ্ট্রায়ত্ত)
২। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাষ্ট্রায়ত্ত)

মূলত ৬ টা রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক, ২ টা রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সহ মোট ৯ টা ব্যাংক এর বিভিন্ন পদে নিয়োগ গুলো হয় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি এর মাধ্যমে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এর এক্সাম টেকার ভিন্ন হবার কারনে প্রশ্নের ধরন ও প্রস্তুতি কিছুটা আলাদা। এখানে আমরা শুধুমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গুলোর জব প্রিপারেশন কিভাবে নিবেন তা আলোচনা করবো।

বাংলাদেশ ব্যাংক এর সহকারী পরিচালক (পুর) পদের প্রস্তুতি সম্পর্কে নিচের ব্লগের লেখাটি পড়তে পারেন।

Click here to read:
বাংলাদেশ ব্যাংক সহকারী পরিচালক (প্রকৌশল-পুর) পদের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত

আসুন দেখা যাক কিভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গুলোর প্রিপারেশন নিতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরি পেতে দরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি; বিস্তর পড়াশোনা। প্রস্তুতির শুরুতে বিভিন্ন ব্যাংকের বিগত প্রশ্নের ধরন দেখে ধারণা নেওয়া যাক। ব্যাংকভেদে পরীক্ষার সময় ও নম্বরে তারতম্য দেখা যায়। তবে প্রশ্ন যেমনই হোক না কেন, যথার্থ প্রস্তুতি থাকলে, প্রাথমিক বাছাই ও লিখিত পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে চাকরিতে প্রবেশ সময়ের ব্যাপার মাত্র।

বেশীরভাগ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণত তিন ধাপে পরীক্ষা হয়।
১/প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা
২/লিখিত পরীক্ষা
৩/মৌখিক পরীক্ষা

এখানে তিনটি ধাপই পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা হবে

প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা:

সাধারণত যখন পরীক্ষার্থী অনেক বেশী থাকে তখন প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা হয়, তারপর লিখিত হয়। পূর্বের অনেক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরাসরি লিখিত হলেও, এখন প্রায় সব ব্যাংকের পরীক্ষাতেই পরীক্ষার্থী অনেক বেশীই থাকে। সেক্ষেত্রে প্রায় সব নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রিলিমিনারি বা প্রাথমিক বাছাই হচ্ছে। এজন্যে এই ধাপে খুবই মনোযোগী হতে হবে এবং পরিপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হবে।

✅ মার্ক ডিস্ট্রিবিউশন :

ব্যাংক জবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে পূর্বে অনেক পরীক্ষাতে প্রিলিমিনারি হয়নি, সরাসরি লিখিত হয়েছিলো। তাই প্রিলির মার্ক ডিস্ট্রিবিউশন একদম সঠিক ভাবে বলা যায়না, তবে অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের পরীক্ষা এবং সাম্প্রতিক সময়ের পরীক্ষা গুলোতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মার্ক ডিস্ট্রিবিউশন অনেকটা এরকম ভাবে হচ্ছে

মোট=১০০ নম্বর
সর্বমোট ৮০ টা প্রশ্ন থাকে এবং প্রতিটি প্রশ্নের নম্বর থাকে ১.২৫ করে। অর্থাৎ মোট =৮০x১.২৫ =১০০ নম্বর। এর মধ্যে আবার দুই টা ভাগ থাকে

☑️ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অংশ- ৪০ টা প্রশ্ন
☑️ নন-ডিপার্টমেন্ট-৪০ টা প্রশ্ন

এ অংশে ভালো করার জন্য সময়জ্ঞান, তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তা, সার্বক্ষণিক মনোযোগ ও মনোবল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটার বিধান থাকায় বাড়তি সতর্কতাও জরুরি।

প্রিলিমিনারি- নন-টেকনিক্যাল অংশ

🔷প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার নন-টেকনিক্যাল পার্ট এর প্রস্তুতির জন্যে বিসিএসসহ অন্যান্য সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি সহায়ক হয় ।

নন-টেকনিক্যাল অংশের প্রস্তুতির জন্য এই ধাপ গুলো অনুসরণ করতে পারেন

১/ বিগত সালের বিভিন্ন ব্যাংকের প্রিলিমিনারি প্রশ্নের সমাধান

২/বিগত সালের বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নের সমাধান
এক্ষেত্রে ৩০ তম-৪১ তম বিসিএস এ বেশী ফোকাস করতে হবে এবং যদি সময় থাকে তাহলে এর আগের বিসিএস এর প্রশ্নগুলো দেখতে পারেন।

৩/ যেকোন প্রকাশনীর একটা ডাইজেস্ট বই সমাধান

৪/ বাংলা সাহিত্য, বাংলা ব্যাকরন, ইংরেজী গ্রামার, বাংলাদেশ বিষয়াবলী, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী, সাম্প্রতিক বিষয়াবলী তে বেশী ফোকাস করতে হবে


প্রিলিমিনারি- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অংশ

🔶 প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার টেকনিক্যাল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পার্ট) এর প্রস্তুতির জন্যে Civil Engineering mcq preparation এর ব্লগ টি দেখতে পারেন।

Click here to read:
Civil Engineering MCQ preparation

লিখিত পরীক্ষা:

প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার ভালো করার পর আপনাকে লিখিত পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষার কোন নম্বর বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যোগ হবেনা। ব্যাংকে চাকরি পাওয়া বহুলাংশে নির্ভর করে লিখিত পরীক্ষার নম্বরের ওপর। প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষায় ভালো করেছেন মানে টুকিটাকি তথ্য আপনার দখলে। এখন ক্রমানুসারে সেগুলো লিখিত আকারে উপস্থাপনের পালা। আর সেক্ষেত্রে নিতে হবে বিস্তর গুছানো প্রস্তুতি আর এই প্রস্তুতি আপনাকে সাহায্য করবে বুয়েট প্যাটার্ন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং জব সহ যেকোন ব্যাংক জবের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে। তাই একটু ভালো করেই প্রস্তুতি নিতে হবে। যদিও বুয়েটে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন চাকুরির প্রশ্নের ধরন আলাদা তবুও এই প্রস্তুতি আপনাকে বুয়েট প্যাটার্ন জবের ক্ষেত্রে অনেকটাই সাহায্য করবে। তাই একই সাথে দুই দিকের লিখিতর প্রিপারেশন নিতে পারেন

মার্ক ডিস্ট্রিবিউশন :

প্রথমেই আপনাকে দেখতে হবে ব্যাংকের চাকুরী পরীক্ষার ক্ষেত্রে মানবন্টন কেমন হয়,প্রশ্নের ধরন কেমন হয় এই ব্যাপার গুলো। এবং সেভাবেই আপনাকে প্রস্তুতি গুছিয়ে আনতে হবে।

ব্যাংক জবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিগত সালের প্রশ্ন এর ধরন অনুসারে মোট ২০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়।
☑️ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অংশ- ১৪০-১৫০ নম্বর
☑️ নন-ডিপার্টমেন্ট অংশ -৫০-৬০ নম্বর

লিখিত- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অংশের প্রস্তুতি:

ব্যাংকের চাকুরীর পরীক্ষার ক্ষেত্রে অন্যান্য পরীক্ষার তুলনায় নম্বর অনেক বেশী থাকে। এই অংশে প্রায় ১২-১৫ টি প্রশ্নে ১৫০-১৬০ নম্বর থাকে। কোন কোন প্রশ্নে ১৫ নম্বর এবং কোন কোন প্রশ্নে ১০ নম্বর করে থাকে। হয়তো পরবর্তী পরীক্ষায় কিছুটা কম-বেশিও হতে পারে । তবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অংশেই মূলত নম্বর বেশী থাকবে । তাই জব পেতে হলে এই অংশে বেশী জোর দিতে হবে এবং ভালো করতে হবে। এবং ব্যাংক জবের ক্ষেত্রে ম্যাথের পাশাপাশি বিভিন্ন থিওরেটিকাল প্রশ্ন ও দেওয়া হয়। তাই ম্যাথের পাশাপাশি থিওরেটিকাল অংশকে ও প্রাধান্য দিতে হবে।

1.Basic Civil Engineering : (Surveying , Engineering Materials & Management) :

এই অংশ থেকে ১-২ টি প্রশ্ন থাকে। Engineering Materials থেকে ১ টি প্রশ্ন এবং Surveying থেকে ১ টি ও Construction Management থেকে সাধারনত খুব একটা প্রশ্ন করা হয়না।

এই অংশ থেকে কি কি টপিক পড়বেন ?

Surveying:
Math: Chain and Tape corrections , Magnetic Declination , Levelling, Curvature and Refraction correction, Reciprocal levelling, Rise and fall method,Area and volume calculation
Theory: Contours (pond, hill, overhanging cliff, vertical cliff)

Engineering Materials:
Mix design math , Apparent and bulk specific gravity related math, Fineness modulus calculation, Estimation basic.

Construction Management:
Difference between CPM & PERT, CPM related Math

2.Structure & RCC design:

ব্যাংক জবের প্রশ্নের ক্ষেত্রে এই অংশ কে অনেক বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয়। শুধু এই অংশেই ৫০/৬০ মার্ক থাকতে পারে। তাই এই অংশে বেসিক ক্লিয়ার করে খুবই ভালো করে পড়তে হবে।। এমধ্যে সবচেয়ে ইম্পরট্যান্ট হচ্ছে SFD,BMD,IL এবং RCC design math

Reinforced Concrete Design:
Beam Design & Analysis (USD and WSD method), Shear reinforcement math of beam, Tie & Spiral design of Column, Slab Design, Punching stress and effective soil pressure calculation of footing, & some basic theory, specifications.

Structural Analysis:
SFD&BMD, Truss analysis , Influence line diagram, Bending stress and shear stress calculation, Axial deformation related math, Beam deflection calculation.

3.Transportation Engineering

এই অংশ থেকে ১/২ টি প্রশ্ন থাকতে পারে। আবার কোন প্রশ্ন নাও থাকতে পারে। ছোট খাট ম্যাথ গুলোর দিকে ইম্পরট্যান্স দিতে হবে।

Traffic & Pavement Engineering:
SSD,OSD related math, PIEV theory, Super elevation related math & theory, , ADT and AADT related math,  SMS and TMS related math, Marshal mix design curve, Difference between flexible and rigid pavements with figure

4.Geotechnical Engineering

এই অংশ থেকে ১/২ টি প্রশ্ন থাকতে পারে। সাধারনত ছোট খাট ম্যাথ গুলোর দিকে ইম্পরট্যান্স দিতে হবে।

Soil Mechanics:
Unit-weight relationship math, Settlement math, Shear strength math, Active and passive earth pressure of retaining wall related math

Foundation:
Footing Bearing capacity math, pile capacity related math

5.Water Resource & Environmental Engineering :   

এই অংশ থেকে ২-৩  টি প্রশ্ন থাকতে পারে। এই অংশ খুবই বড় এবং তুলনামূলক অন্য অংশের চেয়ে প্রশ্ন ও কম আসে। এজন্য খুব বেছে বেছে ইম্পরট্যান্ট টপিক গুলো পড়তে হবে।

Hydrology:
Phi – index & W – index related math, Hydrograph math

Environmental Engineering:
Diagram of Water Supply System, BOD, COD math & theory, Bleaching powder requirement related math

Open Channel Flow:
Critical depth and related math, Mannings & Chezy equation math, Lacys theory math,  Hydraulic jump and related math, Froude number and related math, Energy equation and related math.

Fluid Mechanics:
Bernoulli’s equation related math, Darcy-Weisbach equation and head loss related math.

Water Supply Engineering:
Head loss related math, Power and efficiency of pumps related math

লিখিত- নন টেকনিক্যাল

এই অংশে মোট ৩০-৪০ নম্বর থাকবে, জব হবার জন্য অল্প মার্ক ও ব্যাবধান করে দেয় তাই সবকিছুতেই ইম্পরট্যান্স দিতে হবে।

১/ ইংরেজিতে Creative writing থাকে ,যেখানে  নির্ধারিত বিষয়ের ওপর Paragraph লিখতে হয় ।  সাধারণত কোনো জাতীয়, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা আন্তর্জাতিক ইস্যু/সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ের ওপর লিখতে চাওয়া হয়। এ প্রশ্নের উত্তরের জন্য সর্বোচ্চ ১/১.৫ পৃষ্ঠা নির্ধারিত জায়গা বরাদ্দ থাকে। ফলে লেখার জায়গা ও সময় বিবেচনায় খুব বড় আকারের লেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং অল্প কথায় সঠিক ব্যাকরণে যথাযথ তথ্য ও যুক্তি উপস্থাপনসহ গুছিয়ে লেখাটা জরুরি। ২০২০ সালের সিনিয়র অফিসার (পুরকৌশল) পদের পরীক্ষায় এই প্রশ্নে ছিলো The Global Economic Outlook During the COVID-19 Pandemic (20 Marks)

২/ বাংলায়, যেকোন একটা টপিক নিয়ে ফোকাস রাইটিং থাকে, ২০২০ সালের সিনিয়র অফিসার (পুরকৌশল) পদের পরীক্ষায় এই প্রশ্নে ছিলো “বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব” (20 Marks)

মৌখিক পরীক্ষা:

যেকোন চাকুরীর ক্ষেত্রেই আপনার চাকুরী পাওয়া টা নির্ভর করবে লিখিত পরীক্ষার উপর। তাই চেষ্টা করবেন লিখিত অংশে বেশী জোর দিতে। এবং লিখিত পরীক্ষায় যতটুক সম্ভব বেশী নম্বর রাখা।তবে মৌখিক পরীক্ষা ও জব পাবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্নকর্তা কী জানতে চান, তা আগে ভালোভাবে শুনুন তারপর বলুন। অন্য যেকোনো চাকরির মতো ব্যাংকের নিয়োগ ভাইভাও সাবলীল প্রকাশভঙ্গি, আত্মবিশ্বাস ও আগ্রহের বিষয়টির জন্য করা হয়। নিজের পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা,নিজ জেলা, ব্যাংকের প্রতি আগ্রহের কারণ, ভবিষ্যৎ পেশা পরিকল্পনা প্রভৃতি বিষয়ে গুছিয়ে বলার অনুশীলন করতে হবে।
আর নিজের পড়াশোনার বিষয়ে ধারণাটা স্পষ্ট থাকা দরকার। নিজ বিষয় (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) সম্পর্কে প্রস্তুতি অনেকাংশেই আপনার লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতির সময়ে হয়ে যায়। এছাড়াও আপনি বর্তমানে কোন প্রতিষ্ঠানে জব করে থাকলে সেখানকার কাজের ধরন,সেই প্রতিষ্ঠানে আপনার দায়িত্ব ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে।

Author:
Engr.Towhidul Islam

Assistant/ Upazila Assistant Engr (Civil), LGED [Recommended]

Follow us:
Facebook Page: https://www.facebook.com/DesignIntegrityBd
Facebook group: https://www.facebook.com/groups/CivilianStudyZone

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here