সরকারি চাকুরীর প্রিপারেশন অনেক লম্বা একটা প্রসেস। এখানে আপনার প্রিপারেশন গুছাতেই ৫/৬ মাস সময় লেগে যাবে। এজন্য প্রিপারেশন শুরুর আগে আপনার মাইন্ড সেট-আপ করতে হবে যে লেগে থাকবেন লম্বা সময়, কারণ কমপ্লিট প্রস্তুতি নিতেই প্রায় বছর খানেক লেগে যায়।

যেহেতু লম্বা সময়ের ব্যাপার তাই এক দুইটা টিউশন ম্যানেজ করে পড়াশোনা শুরু করা উচিত অথবা প্রাইভেট জব করেও প্রিপারেশন নিতে পারেন হয়তো সেক্ষেত্রে একটু বেশি কষ্ট করতে হবে। একদম ব্ল্যাংক ভাবে শুরু করলে হতাশ হয়ে পড়বেন, এজন্য ফিনান্সিয়াল ব্যাক আপ টা পেলে তখন আর হতাশা কাজ করবেনা, নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করা যাবে।

সঠিক প্ল্যানিং, বেসিক ক্লিয়ার করে পড়া,নিয়মিত পরিশ্রম দিয়ে দীর্ঘ সময় লেগে থাকা আর আল্লাহর রহমত থাকলে ইনশাল্লাহ এই যাত্রায় পার হতে পারবেন
“এখানে আমরা শুধু টেকনিক্যাল জব   [ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং  ]  প্রিপারেশন কে ফোকাস করবো  “
প্রথমেই প্রিপারেশন এর ধরন কে ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিতে হবে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং রিলেটেড বিভিন্ন জব এক্সাম গুলো সাধারণত BPSC, BUET, MIST, DUET, IBA, AUST নেয়। তাই জব এক্সাম কারা নিচ্ছে সেটা জেনেই প্রস্তুতিটা সেভাবেই নিতে হবে।
এবার আসি কারা কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যেম এক্সামে নেয় এবং কোন অথরিটির কোশ্চেন প্যাটার্ন কেমন হয় ?

        1. BPSC-   Bangladesh Public Service Commission Pattern 

BPSC হচ্ছে Bangladesh Public Service Commission বা বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা যার দায়িত্ব সরকারি চাকরিতে নিয়োগ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ইত্যাদিতে নিয়োগ BPSC এর মাধ্যমে হয়। এগুলো সব রাজস্বখাতভূক্ত পিওর গভঃ জব। প্রথম শ্রেনীর গ্যাজেটেড কর্মকর্তা নিয়োগ হয় পি.এস.সি এর মাধ্যমে।
☑️ পরীক্ষার্থী ১০০০ এর বেশি হলে, প্রথমে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়।
☑️ সাধারণত ১০০ নম্বর এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়
☑️ প্রিলি পাশকৃত দের নিয়ে ২০০ নম্বরের রিটেন পরীক্ষা হয়, আর যদি ১০০০ এর কম পরীক্ষার্থী হয় তাহলে সরাসরি রিটেন হয় ২০০ নম্বর এর
☑️  রিটেন পাশকৃত দের নিয়ে ১০০ নম্বরের ভাইবা হয়।

2. BUET pattern

বিভিন্ন বোর্ড, অথোরিটি, কর্পোরেশন, সরকারি কোম্পানি ইত্যাদিতে নিয়োগের বেশিরভাগ এক্সাম সাধারণত বুয়েট নেয়। এখানে সাধারনত টেকনিক্যাল পার্টেই বেশী ইম্পরট্যান্স দেয়া হয় । টেকনিক্যাল পার্টের মধ্যে ম্যাথমেটিকাল পার্ট থাকে অনেকাংশে। অন্যান্য প্যাটার্নের এক্সামের চেয়ে এই প্যাটার্নের প্রিপারেশন বেশী ইফেক্টিভ কারন এতে বেসিক ক্লিয়ার হয় এবন অন্যান্য প্যাটার্নের এক্সামের ক্ষেত্রেও অনেক কাজে দেয় এছাড়াও এই প্যাটার্নে অনেক বেশি এক্সাম হয়ে ত

এখানে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা হয়ে থাকে

☑️ টেকনিক্যাল = ৭০-৮০% মার্কস (লিখিত)
☑️ নন টেক = ২০-৩০% মার্কস(MCQ)

3. MIST ~ Military Institute of Science  & Tech

বাংলাদেশ আর্মির অধীনস্থ কিছু অর্গানাইজেশন সহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান এর এক্সাম নেয় MIST, আগে থিওরেটিক্যাল প্রশ্নের দিকে বেশী জোর দিলেও বর্তমানে অনেকটা বুয়েটের আদলেই প্রশ্ন করে থাকে MIST.

 মোট ১০০ নম্বর এর প্রশ্ন হয়ে থাকে ।

☑️ ডিপার্টমেন্ট -৬০-৭০% লিখিত(থিউরি+ম্যাথ)
☑️ নন ডিপার্টমেন্ট -৩০% লিখিত/ এক কথায় উত্তর/MCQ

4. IBA ~ The Institute of Business Administration

ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধীনস্থ একটি ডিপার্টম্যান্ট হচ্ছে IBA, বর্তমানে অনেক ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষা ই IBA এর মাধ্যমে নেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে প্রিপারেশন নিতে হবে IBA যেভাবে পরীক্ষা নেয় সেই প্যাটার্ন এ।

বিগত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায় কিছু প্রতিষ্ঠান যার প্রায় সব সময়ই IBA এর মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়।

মোট ৮০/১০০ নম্বর এর প্রশ্ন হয়ে থাকে ।

☑️ ডিপার্টমেন্টাল পার্ট -৫০ MCQ
☑️ নন ডিপার্টমেন্ট -৩০-৫০ MCQ

5 .AUST ~ Ahsanullah University of Engg & Tech

বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গুলোর পরীক্ষা নেয় AUST।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬ টি।এছাড়াও ২ টি বিশেষায়িত ব্যাংকের পরীক্ষা ও AUST নেয় ।
.
☑️ পরীক্ষার্থী ১০০০ এর বেশি হলে, প্রথমে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়।
☑️ সাধারণত ১০০ নম্বর এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়
☑️ প্রিলি পাশকৃত দের নিয়ে ২০০ নম্বরের রিটেন পরীক্ষা হয়, আর যদি ১০০০ এর কম পরীক্ষার্থী হয় তাহলে সরাসরি রিটেন হয় ২০০ নম্বর এর

পরীক্ষার প্যাটার্নের সাথে সাথে প্রিপারেশন এর ধরন ও প্রত্যেক ক্ষেত্রে আলাদা, এবং কোন এক্সাম কারা নিবে সেটা জেনে সেভাবে প্রিপারেশন নিতে হবে।

Engr.Towhidul Islam
Upazila Assistant Engr (Civil), LGED [Reccommended]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here