সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং হল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার প্রাচীনতম ও অন্যতম শাখা যার বাংলা পুরকৌশল বিদ্যা । সারা পৃথিবীর প্রকৌশল বিদ্যায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে এই শাখাটি। স্বপ্ন যাদের দেশ গড়ার তাদের জন্যই পুরকৌশল।

যারা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন বা পড়বেন ভাবছেন তাদের জন্যে এই লেখা একটু সময় নিয়ে পড়তে পারেন । যারা এইচ.এস.সি দিয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন কিংবা যারা ডিপ্লোমা শেষ করেছেন এবং বি.এস.সি করার কথা ভাবছেন  তারাও পোস্ট টি পড়তে পারেন।

১.সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি
২.কেন পড়বেন ?
৩.বাংলাদেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্কোপ 
৪.সরকারি জব এর স্কোপ
৫.বেসরকারি জব এর স্কোপ
৬.কোথায় পড়বেন ?
৭.পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ
৮.প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কি ?

সৃষ্টি শুরু থেকেই পুরকৌশল বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সূচনা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-কে প্রকৌশল জ্ঞান এর মা বলা হয়। ধারণা করা হয় প্রাচীন মিসরে ৪ হাজার আগে পুরকৌশলবিদ্যার প্রসার ঘটে। এরপর ধীরে ধীরে রোম, ব্রিটেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এবং ১৮২৮ সালে লন্ডনে Institution of Civil Engineers এটিকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং মূলত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের প্রকৌশলী বিজ্ঞানের সমন্বয়। কোনো প্রকল্পের নকশা, ব্যবস্থাপনা, গঠন, নির্ধারণ তদারকি, পরিকল্পনা ইত্যাদি একজন পুরকৌশলীর প্রধান কাজ।

No photo description available.

 

সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা পুরকৌশলী কি করে থাকে?

আবাসিক/ব্যক্তিগত ভবন নির্মাণ থেকে শুরু করে, অফিস ভবন ,বাণিজ্যিক ভবন,স্কুল,কলেজ,ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভবন সহ সুউচ্চ দালান নির্মাণ,কলকারখানা নির্মাণ, সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ,ফ্লাইওভার নির্মাণ ,রেলপথ নির্মাণ,সেতু নির্মাণ,বাঁধ নির্মাণ, নৌ বন্দর-স্থল বন্দর-বিমান বন্দর নির্মাণ সহ এগুলোর অবকাঠামোগত পরিকল্পনা, ডিজাইন, গঠন এবং রক্ষনাবেক্ষন করার কাজ করে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়াও একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর কাজ শহরে বিশুদ্ধ পানি সাপ্লাই, প্রয়োজনীয় পানি সরবারহ নিশ্চিতকরন, নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রন, বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রন করা, উপযুক্ত ড্রেইনেজ সিস্টেম, পরিকল্পিত ভাবে বর্জ্য নিয়ন্ত্রন,পরিবেশ রক্ষা এর যে কোনটিই হতে পারে।
আধুনিক সভ্যতার বিকাশে পৃথিবীর সর্বত্র পুরকৌশলীদের কাজ রয়েছে।

” সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বা পুরকৌশলী কি করে থাকেন  সে সম্পর্কে শুনুন
নির্মাণের নেপথ্য নায়ক অধ্যাপক ড. ইফতেখার আনাম স্যার এর মুখে “

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান শাখা

যেহেতু সময়ের সাথে সাথে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর পরিসর বাড়ছে তাই এর অনেক শাখা সৃষ্টি হয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং, জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং,এনভায়রনমেনটাল ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি ।আর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এই প্রত্যেকটা বিভাগই পড়ানো হয় যার ফলে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর কাজ করার সুযোগ থাকে এই সবগুলো সেক্টরেই, কাজের পরিধি হয় অনেক বিস্তৃত। আমাদের দেশে একটা কথা আছে গোলআলু সব তরকারিতে যায়। ঠিক তেমনি এই সব সেক্টরেই একজন সিভিল ইন্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ আছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান ৫ টি শাখা আছে নিচে এগুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হল

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং : 

সুউচ্চ ভবন থেকে শুরু করে, ব্রীজ,ফ্লাইওভার সহ যেকোন অবকাঠামো, সেটা হোক ছোট কোন টিনের শেড কিংবা আইফেল টাওয়ার তার স্ট্রাকচারাল এনালাইসিসের মাধ্যমে ডিজাইন করা হচ্ছে একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ। অর্থাৎ যে কোন অবকাঠামোর মূল গঠন কাঠামোর ডিজাইন করা, যার মাধ্যমে কাঠামোটি দাঁড়িয়ে থাকবে। ঠিক যেমনটা হাড় এবং পেশী মানব শরীরের কাঠামো ধরে রাখতে কাজ করে।
কল্পনা কে বাস্তবে রূপদান করাই হচ্ছে একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের কাজ।

জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং : 

যেকোন স্ট্রাকচার দাঁড়িয়ে থাকে মাটির উপর, আর এই মাটির আচরন ও বৈশিষ্ট্য নিয়েই হচ্ছে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। মাটির বৈশিষ্ট্য খুবই অপ্রত্যাশিত ধরনের এবং এর সাথে পানি থাকায় বিষয়টি আরো জটিল। তাই জিওটেকনিক্যাল পার্ট সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভুগর্ভের সিপেজ, ভুমিকম্পের প্রভাব,মাটির স্থিতিশিলতা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং শাখাটি। বাধ, রিটেইনিং ওয়াল, ফাউন্ডেশন ইত্যাদির ডিজাইনও করা হয় এই শাখায়।

ওয়াটার রিসোর্স ইঞ্জিনিয়ারিং : 

পানি আমাদের জীবনে অনেক গুরুত্বপুর্ন এটা আমরা সবাই যেমন জানি। পানি সম্পদের সুষ্ঠ ব্যাবহার এবং পানির ভৌত অবস্থা নিয়ে কাজ করে পানি সম্পদ প্রকৌশল। শহরে বিশুদ্ধ পানি সাপ্লাই, প্রয়োজনীয় পানি সরবারহ নিশ্চিতকরন, বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রন করা, উপযুক্ত ড্রেইনেজ সিস্টেম,সেচের পানি সরবরাহ, কার্যকর সেচ ব্যাবস্থা তৈরী করা , ভূগর্ভের পানি উত্তলন,বন্যার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রন,নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রন,নদী শাসন সহ পানি বিষয়ক আলোচনা করে এই শাখা এছাড়াও হাইড্রলিক পাওয়ার, বাধ, খালের ডিজাইন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে এই শাখাটি।

ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং : 

কোন দেশের উন্নয়ন অনেকটা প্রভাবিত হয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে। ট্র্যান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত রয়েছে সড়ক-মহাসড়ক, ফ্লাইওভার নির্মাণ ও মেরামত ,রেলপথ নির্মাণ ও মেরামত,সেতু নির্মাণ এছাড়াও মানুষ, মালামাল ইত্যাদি পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে গবেষনা, ডিজাইন, সমস্যা, সমাধান নিয়ে কাজ করে ট্র্যান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং। অল্প রাস্তায় অধিক পরিবহন সুবিধা, দুর্ঘটনা কমানো, খরচ কমানো ইত্যাদি নিয়ে কাজ করে এই শাখা।

এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং:

এ শাখায় পরিবেশ নিয়ে কাজ করা হয় । দিন দিন পরিবেশ সংক্রান্ত ইস্যুগুলো বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে আর এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কাজের পরিধিও বৃদ্ধি হচ্ছে। সিভিল এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার এর কাজের মধ্যে একটা বড় অংশ হচ্ছে মানব ও প্রাণীর ক্রিয়াকলাপ থেকে সৃষ্ট বর্জ্য পরিকল্পিত ভাবে নিয়ন্ত্রন ও বর্জ্য নিষ্পত্তি, ও আবর্জনার পুনর্বাসনের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষা। এছাড়াও কোন বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মানের পরিবেশগত ঝুঁকি , কোন অবকাঠামো কিভাবে এনভায়রমেন্টাল সেফটি রেখে নির্মান করতে হবে,শক্তি সংরক্ষণ, জল এবং বায়ু পরিশোধ,জনস্বাস্থ্য ও জীবনমান উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে এ শাখা।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রধান শাখা গুলো ছাড়াও আরো কিছু সেক্টরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রত্যক্ষ্য ভাবে জড়িয়ে আছে এবং এসব সেক্টরেও একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার এর কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে

কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং :

এই শাখাতে আলোচনা করা হয় যে কি ভাবে একটি কাঠামোর কাজ করতে হবে। কোন প্রজেক্টে অর্থের ব্যবহার, সময়ের সংক্ষেপন, প্রয়োজনীয় মালামাল-যন্ত্রপাতি ইত্যাদির যোগান, কাঠামো গঠনের পদ্ধতি,রিস্ক ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করা হয় এই শাখাইয়।

আরবান এবং কমিউনিটি প্ল্যানিং : 

নগরায়ণ এবং শহর পরিকল্পনা করা হয় মুলত একটি গোষ্ঠি নিয়ে কাজ করা। আরবান এন্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং এর অন্তর্ভুক্ত হলো টাউন প্ল্যানিং, সিটি প্ল্যানিং, রিজিওনাল বা কমিউনিটি প্ল্যানিং যার মধ্যে রয়েছে জমির সুষ্ঠ ব্যাবহার,স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, যানবাহন ব্যাবস্থা,যোগাযোগ ব্যাবস্থা,স্যানিটেশন, ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ইত্যাদি। আরবান এন্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং এর মূল কাজ একজন আরবান প্ল্যানারের। কিন্তু এই কাজের সাথে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত। এবং একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের এই সেক্টরে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

কেন পড়বেন ?

চাহিদার কথা বলতে গেলে বলতে হয় কিছু কিছু বিষয়ের চাহিদা সেই প্রাচীন কালেও ছিল, এখনও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। পুরকৌশল তেমনি একটি বিষয়।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজের পরিধি অনেক বিস্তৃত। বলতে গেলে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে যেমন হিউম্যান ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাজ করতে হয়, ঠিক তেমনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট ও এই শাখার বাইরে না।
যদি একজন ইঞ্জিনিয়ার সঠিক একাডেমিক গাইডলাইন অনুসরন করে এবং যথাযথ ভাবে তার কাজ সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করে তবে এই সেক্টরে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। তবে এজন্য দরকার অনেক পরিশ্রম, সাধনা, এবং দক্ষতা অর্জন।

বাংলাদেশে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর জব স্কোপ

অনেকের ধারনা এই বিষয় পড়লে ঘুষ খেতে হয় কিংবা এই প্রকৌশলীদের বেতন নাই। কিন্তু ভাল মন্দ সম্পূর্ণ নিজের কাছে।কেউ যদি দুর্নীতি করতে চায়, যে কোন জায়গা থেকেই তা করতে পারে। ভাল থাকতে চাইলে যে কোন জায়গাতেই ভাল থাকা সম্ভব। আর বেতনের কথা বলা যায় দক্ষতা থাকলে এই বিষয়ে যত উপরে যাওয়া যায়, অন্য কোন বিষয়ে তা সম্ভব না, তা দেশেই হোক আর বিদেশেই হোক।

আমেরিকার এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এর পর সিভিল ইঞ্জিনিয়ার দের গড় বেতন সবচেয়ে বেশি। তবে তার মানে এই নয় যে সবাই high salary job পাবে, এজন্য সেই পর্যায়ের skill develop করতে হবে। এটা শুধু পুরকৌশল নয়, সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

সরকারি চাকরি: 

ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরের মধ্যে একমাত্র সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেই অনেক বেশী সরকারির নিয়োগ হয়ে থাকে। সরকারের প্রায় সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর, বোর্ড,কর্পোরেশন,স্বায়িত্বশাসিত সংস্থা,ব্যাংক,সেনবাহিনী,বিমান বাহিনী সহ প্রায় সব সেক্টরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হয়।

সরকারি চাকরির নিয়োগ আসছে || Somoynews.tv

বিসিএস ক্যাডার:

বিসিএস ক্যাডার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির সুযোগ রয়েছে অনেক মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে। যার ফলে আপনি একাধারে আপনার প্যাশন হিসেবে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরে কাজ করতে পারবেন এবং অন্যদিকে একজন প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগ দিতে পারবেন। বিসিএস ক্যাডার (সিভিল ইঞ্জিনিয়ার) হিসেবে চাকুরীর সুযোগ রয়েছে।

  • সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD)
  • গণপূর্ত অধিদপ্তর (PWD)
  • বাংলাদেশ রেলওয়ে
  • জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (DPHE)
  • ইন্সট্রাক্টর(Tech)


প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড নন-ক্যাডার কর্মকর্তা:

বিসিএস ক্যাডার ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর, বোর্ড,কর্পোরেশনে প্রথম শ্রেনী কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীর সুযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে

  • শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (EED)
  • স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (HED)
  • স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (LGED)

প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা:
বিসিএস ক্যাডার এবং নন-ক্যাডার ছাড়াও সরকারী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, দপ্তর, পরিদপ্তর, বোর্ড,কর্পোরেশনে প্রথম শ্রেনী কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরীর সুযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে

  • পানি উন্নয়ন বোর্ড
  • এলজিডি
  • বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ
  • বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ
  • সিটি করপোরেশন
  • পৌরসভা
  • গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
  • মিলিটারী ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস
  • ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন
  • বিভিন্ন বন্দর ( স্থল ও নৌ বন্দর)
  • বাংলাদেশ স্টিল এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন
  • বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা
  • বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
  • বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ
  • বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)
  • বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ
  • হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট
  • আরো অন্যান্য প্রায় সকল সরকারি সংস্থায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে

ব্যাংকারঃ
বিভিন্ন ব্যাংকের ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ হয়। ৬ টা রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক, ২ টা রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সহ মোট ৯ টা ব্যাংক এর বিভিন্ন পদে নিয়োগ গুলো হয় ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে।

  • বাংলাদেশ ব্যাংক -সহকারী পরিচালক (পুরকৌশল)
  • সোনালী ব্যাংক লিমিটেড-সিনিয়র অফিসার (পুরকৌশল)
  • অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড-ঐ
  • রূপালী ব্যাংক লিমিটেড-ঐ
  • জনতা ব্যাংক লিমিটেড-ঐ
  • বেসিক ব্যাংক লিমিটেড-ঐ
  • বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড-ঐ
  • বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক-ঐ
  • রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-ঐ

সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান :
বাংলাদেশের বিভিন্ন সামরিক বাহিনীতে বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর যোগদানের সুযোগ রয়েছে। সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এসব নিয়োগ হয়ে থাকে

  • সেনাবাহিনী (ক্যাপ্টেন পদে)
  • বিমান বাহিনী(অফিসার ক্যাডেট পদে)
  • নৌবাহিনী (বিভিন্ন পদে)

পাওয়ার সেক্টরে:
বাংলাদেশে পাওয়ার সেক্টরে উচ্চ বেতনে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকুরীর অনেক ভালো সুযোগ রয়েছে । এদের মধ্যে আছে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণের সাথে জড়িত সরকারি প্রতিষ্ঠান,তেল, গ্যাস সহ বিভিন্ন জ্বালানী সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে চাকুরির সুযোগ।

শুধু পেট্রোবাংলার অধীনেই ১৩ টি কোম্পানি রয়েছে। সেগুলি হল

  • বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন কোম্পানী লিমিটেড
  • বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেড
  • সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানী লিমিটেড
  • গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেড
  • তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড
  • বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস লিমিটেড
  • জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিষ্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড
  • রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড
  • পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড
  • বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেড
  • মধ্যপাড়া হার্ডরক মাইনিং কোম্পানী লিমিটিড
  • সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানী লিমিটেড
  • কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড

বিদ্যুৎ খাত:

বিদ্যুৎ খাতের সাথে সম্পর্কিত সরকারী সংস্থার মধ্যে রয়েছে

  • বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (বাংলাদেশ)।
  • বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।
  • বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
  • ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)
  • ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড (ডিপিডিসি)
  • পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী অব বাংলাদেশ
  • রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল)
  • আশুগঞ্জ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (এপিসিএল)
  • ইলেকট্রিক জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (ইজিসিবি)
  • নর্থ ওয়েষ্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (নওপাজেকোলি)

কয়লা খাত:

  • বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
  • কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানী বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক:

  • সরকারী ইউনিভার্সিটি
  • সরকারী পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট
  • সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
  • টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার
  • ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ।

(আরো থাকতে পারে)

বে-সরকারী চাকুরি : 

  • বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
  • রিয়েল এস্টেট কোম্পানি
  • ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম
  • কন্সট্রাকশন ফার্ম
  • কনসাল্টেন্সি ফার্ম
  • ট্রান্সপোর্টেশন,পেভমেন্ট,ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে বিভিন্ন সড়ক,মহাসড়ক ও সেতু নির্মানকারী কোম্পানিতে
  • পরিবেশ নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে
  • বিভিন্ন দেশী বেদেশী NGO তে Environmental/Wash/Qc Engineer হিসেবে
  • এছাড়া দেশীয় বিভিন্ন মেগা প্রজেক্ট যেমনঃ পদ্মা ব্রিজ, মেট্রো রেল, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফ্লাইওভার,কর্নফুলী টানেল,স্টেডিয়াম,এয়ারপোর্ট, পায়রা পোর্ট,রুপপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট,রামপাল পাওয়ার প্ল্যান্ট সহ বিভিন্ন ধরনের মেগা-প্রজেক্টে চাকুরীর সুযোগ রয়েছে।
Top 18 Real Estate Companies In Bangladesh 2021

উচ্চ শিক্ষা : 

☑️ ভালো রেসাল্ট এবং GRE, IELTS স্কোর থাকলে খুব সহজেই পেয়ে যেতে পারেন স্কলারশিপ নিয়ে বিভিন্ন দেশের নামকরা ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সুযোগ।

☑️ প্রাইভেট হোক আর পাবলিক ,একটু চেষ্টা করলে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়া সম্ভব

☑️ এছাড়া প্রাইভেট/পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে পড়ে, দেশের মধ্যে বুয়েট,চুয়েট,কুয়েট,রুয়েট,AUST, MIST,UAP,IUT ইত্যাদি ইউনিভার্সিটিতে MS.c,M.Engg করার সুযোগ রয়েছে।

☑️ এছাড়াও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টপমেন্ট থেকে অনেকেই IBA-MBA করে বিভিন্ন দেশী/বিদেশী/মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানিতে যোগদান করছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কিত চাকরিতে।

☑️ এছাড়াও আছে BUET-IWFM,MURP Dhaka University -EMBA, Disaster Management – M.Sc, JU – Environmental Engineering সহ এরকম বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর সাথে সম্পৃক্ত ডিপার্টমেন্ট থেকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে।

” সম্ভাবনার দ্বার সবই খোলা ,শুধু ব্যাপার হচ্ছে আপনি কিভাবে নিচ্ছেন,আর কিভাবে নিজেকে গড়ে তুলছেন।
নিজস্ব সেক্টরে কাজের দক্ষতা, পর্যাপ্ত জ্ঞান, কঠোর পরিশ্রম, এবং নিজের উপর আত্নবিশ্বাস থাকলে যেকোন জায়গা থেকে যেকোন সেক্টরে ভালো করা সম্ভব

.

সিভিল ইঞ্জিয়ারিং ক্যারিয়ার কথন / পার্ট ০২~ কোথায় পড়বেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ?

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যারিয়ার কথন এর দ্বিতীয় পর্বটিতে আলোচনা করা হয়েছে কোন কোন ইউনিভার্সিটিতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ রয়েছে, কোন ইউনিভার্সিটিতে কেমন ফ্যাসিলিটিস রয়েছে এসব সম্পর্কে বিস্তারিত। আপনি যদি মনস্থির করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বেন তাহলে দ্বিতীয় পর্ব পড়ে ঠিক করুন কোথায় পড়বেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং।

দ্বিতীয় পর্বটি পড়তে নিচের লিংক এ ক্লিক করুন 👇👇

.

AUTHOR: 
Engr.Towhidul Islam
Assistant/ Upazila Assistant Engr (Civil)
Local Government Engineering Department (LGED)
Ministry of Local Government, Rural Development & Co-operatives

JOIN US
FB Group : https://www.facebook.com/groups/CivilianStudyZone
FB Page :
https://www.facebook.com/DesignIntegrityBd

Website: http://dil.com.bd
Blog:
https://blog.dil.com.bd


LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here